স্টাফ রিপোর্টার, ০২ আগস্ট ২০১৮:
মেহেরপুর জেলায় প্রায় এক লাখ কোরবানির উপযুক্ত পশু রয়েছে। এসব পশু কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য বর্তমানে পরিচর্যায় ব্যস্ত বসতবাড়ি ও খামারের মালিকরা। গেল বছর কোরবানির পশুতে ভালো দাম পাওয়ায় পশু পালনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এবার গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে পশু পালনকারীদের।
জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে কোরবানির জন্য ৬১০টি মহিষ, ৩৬ হাজার ৯১৪টি গরু, ২ হাজার ২৮২টি ভেড়া ও ৫৯ হাজার ৪৯০টি ছাগল রয়েছে। যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এখানে গরু খামার ৭৭৬টি, ছাগল খামার ৩৪৯টি এবং ২৫৬টি ভেড়া খামার রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে পশু পালন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের বাড়িতে দুই-একটি করে গরু পালন যেন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সারা বছর পালনের পর কোরবানির সময় বিক্রি করা হয় এসব পশু। গরু, ছাগল ও ভেড়া বিক্রির টাকাগুলো এক সঙ্গে হাতে আসার ফলে আর্থিক উন্নতি করতে পারছেন অনেকেই। তাই প্রতি বছরই গবাদি পশু পালনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারের সংখ্যাও বাড়ছে বলে প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে।
গাংনীর পশ্চিম মালসাদহ গ্রামের অ্যাবকম ক্যাটেল ফার্মের মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, এবারো তার খামারে কোরবানি উপযুক্ত শতাধিক গরু রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীরা গরু কিনতে আসছেন। দরদামে পছন্দ না হলে ঢাকার পশু হাটে গরু তুলবেন তিনি।
গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে লোকসানের আশঙ্কা প্রকাশ করে এই খামারি জানান, ঘাস, বিচুলি-খড় ও সুষম খাদ্যের দাম বেড়েছে। গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি দামে এসব গো-খাদ্য কিনতে হচ্ছে।
জানা গেছে, বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু পালন করেন গাংনীর পশ্চিম মালসাদহ গ্রামের ইটভাটা মালিক ইনামুল হক। এবারো তার খামারে ১৩টি গরু রয়েছে। প্রতিটি গরু এখনই দর উঠছে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত।

খামারি ইনামুল হক বলেন, ‘বড় গরু পালন করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন স্থানে ওষুধ দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণের বিরূপ প্রভাব পড়ে আমাদের এলাকায়। উপযুক্ত জাতের বাছুর, নির্দিষ্ট পরিমাণ সুষম খাবার ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় গরু অনেক বড় করা হয়। ক্ষতিকর কোনো ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। খামার রক্ষায় ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর হতে হবে।’
দামের বিষয়ে তিনি জানান, গত বছর ভারতীয় গরু আমদানির সংখ্যা কম থাকায় খামারিরা ভালো দাম পেয়েছেন। এবার ভারত থেকে গরু আমদানি না হলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, মেহেরপুর জেলায় ক্ষতিকর স্টেরয়েড দিয়ে গরু পালন করা হয় না। দেশীয় খাবার দিয়েই গরু পালন করা হচ্ছে। খামার ও ব্যক্তি পর্যায়ে পালিত পশু কোরবানি উপযুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। নির্বিঘ্নে কোরবানির জন্য পশু বিক্রি করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন প্রাণি সম্পদ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। এছাড়াও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে ভারত থেকে অবৈধ পথে গরু আসা ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ও বিজিবি’র সাথে আলোচনা করা হচ্ছে।