গাংনী প্রতিনিধিঃ(০৯/০৫/১৯)
১৪ লাখ ১১ হাজার টাকা। ঘর নির্মানের ক্ষেত্রে এই অংক কম কথা নয়। চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি ছাদের ঘর নির্মান করা যায় এই টাকায়। অথচ দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ওই অংকের টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি সরকারী অর্থ লোপাটের উদ্দেশে এই নকশা করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় এমপি’র হস্তক্ষেপে সেই নকশাকারীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
এ প্রসঙ্গে মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, এখানে যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে তাদের ছাদের ঘর তৈরী সম্ভব ছিল। এটিও সংস্কারের মধ্যে পড়ে। আমার কাছে যা মনে হলো- এই ভাঙ্গা ভবনের উপরে ইটের গাঁথুনী ও টিনের ছাউনি দিয়ে যে সংস্কার করা হয়েছে তাতে আড়াই লাখ টাকা মতো খরচ হতে পারে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারকেও অবহিত না করে আনছার-ভিডিপি কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করছেন। আমরা চায়, সরকার যে সুষ্ঠু চিন্তা চেতনা নিয়ে এই অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন তা দিয়ে একটি সুন্দর অফিস হোক। যদি এই পর্যায়ে কাজটি সম্পন্ন হয় তাহলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আমাদের উপজেলার মানুষ ও ইউএনও’র খরচের হিসেব প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় আমরা সংশ্লিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।
এদিকে গতকাল এমপি’র পরিদর্শন ও বক্তব্যর পর দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ঠ প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও আনছার-ভিডিপি’র উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। বিভিন্নভাবে তারা বিষয়টি ঢামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা পরিষদের মধ্যে আনছার-ভিডিপি কার্যালয় দুই কক্ষ বিশিষ্ট হওয়ায় অসুবিধায় ছিলেন কর্তৃপক্ষ। জায়গা সংকটের বিষয়টি নজরে নিয়ে নতুন ভবন নির্মানের জন্য জেলা অফিস থেকে সদর দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারী দরপত্রের মাধ্যমে ১৪ লাখ ১১ হাজার ৮৯০ টাকার প্রাক্কলিত মূল্যের কাজ পায় মেহেরপুর শহরের হালদারপাড়ার আনিছুর রহমান লাভলু নামের একজন ঠিকাদার।
উপজেলা আনছার-ভিডিপি অফিসার বলেন, এখানে আমার ৮০০জন সদস্য রয়েছেন। নির্বাচন ও বিভিন্ন সময়ে তারা অফিসে আসলে দাঁড়ানোর জায়গা দিতে পারি না। দুই কক্ষ বিশিষ্ট রুমে আমাদের কাজ চলে না। চার রুমের একটি ছাদের ঘর হবে বলে আমাদের জানানো হলেও পুরাতন ভবনই সংস্কার হচ্ছে।
১৪ লাখ টাকায় নতুন ভবন নির্মান না করে পুরাতন ভবন সংস্কার কেন? এমন প্রশ্নের সঠিক জবাব মেলেনি জেলা আনছার ভিডিপি অ্যাডজুটেন্টের কাছ থেকে।
মেহেরপুর জেলা অ্যাডজুটেন্টের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কুষ্টিয়া জেলা অ্যাডজুটেন্ট তরফদার আলমগীর হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার কাছেও ভুল মনে হয়েছে। সংস্কারের বরাদ্দের টাকা কাজ করলে ফেরত যেতে পারে এমন অজুহাতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ঠ প্রকৌশলী।কাজ করা ঠিক হচ্ছে না।
এখানে দু’টি কক্ষে চারটি জানালা, তিনটি দরজা, একটি টয়লেট ও লোহার এঙ্গেল বসিয়ে টিনের ছাউনি দেওয়া হচ্ছে। এই সামান্য কাজে ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যে কাজ করছে তাতে ৪-৫ লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলে জানালেন স্থানীয় ঠিকাদার মোনায়েম মোলাক। ভবন নির্মান পরিদর্শন করে তিনি পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে এ তথ্য দেন।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (০৯ মে) দুপুরে স্থানীয় সাংসদ মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন ভবন নির্মান কাজ পরিদর্শন করেন। সঙ্গে ছিলেন ইউএনও, আনছার-ভিডিপি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল বলেন, একাজের পর্যালোচনার জন্য আমি সংশ্লিষ্ঠদেরকে আসতে বলেছি।