মেহেরপুর প্রতিনিধি :
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী হাবিবুর রহমানের বেতন বিল সম্পন্ন করতে উপরি নিলেন অফিস সহকারী আসাদুল ইসলাম লিটন। হাবিবুর রহমানের অসুস্থতাজনিত অফিসে না আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘুষ নিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর সম্পন্ন করে বেতন করে দিয়েছেন বড় বাবু লিটন।
গাংনী হাসপাতালের এই বড় বাবু লিটনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, ক্রয় বাণিজ্য, খাদ্য বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগে হাসপাতালের ভুক্তভোগীরা অতিষ্ট। কিন্তু প্রভাবশালীমহলকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন থেকেই বড় বাবু লিটন বহাল তবিয়তে একের পর এক কুকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, বামন্দী ইউনিয়নের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হাবিবুর রহমান শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত অফিসে স্বাক্ষর করতে পারেন না। যদি প্রতি সপ্তাহে এ পদের কর্মচবারীরা এক দিনে স্বাক্ষর সম্পন্ন করে থাকেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে হাবিবুর রহমান নিজ বাড়ি থেকে কর্মদায়িত্ব পালন করেন। আর এ সুযোগে বেতন উত্তলন করার উপরি আদায়ের সুযোগ লুফে নেন আসাদুল ইসলাম লিটন।
অভিযোগে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের ২ তারিখে হাবিবুর রহমান অফিসে গিয়ে পূর্বের মাসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর সম্পন্ন করেন। এতে সহযোগিতা করেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ আব্দুল হান্নান ও অফিস সহকারী আসাদুল ইসলাম লিটন। এভাবে দুই মাসের স্বাক্ষর সম্পন্ন করে বেতন উত্তলন করতে বড় বাবু লিটন মাসিক ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। বেতনের টাকা ঘুষ দিতে গিয়ে নিজের অসহায়ত্ব ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে হাবিবুর রহমান চলতি মাসের প্রথম দিকে হাসপাতালে স্বশীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ উত্থাপন করেন। পরে অদৃশ্য হাতের ইশারায় তিনি মুখ বন্ধ করেছেন। ফলে অভিযুক্ত বড় বাবু আসাদুল ইসলাম লিটন বহাল তবিয়তে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বড় বাবু আসাদুল ইসলাম লিটনের দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে সিভিল সার্জনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কয়েকজন ও সচেতন মহল।
তবে বিষয়টি ইতোমধ্যে খোঁজ নিতে মাঠে নেমেছেন একটি গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা। গাংনী হাসপাতালের বড় বাবু লিটনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে তিনি জানান। নাশ প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, দ্রæত এ বিষয়ে একটি তথ্যপ্রমাণ বহুল প্রতিবেদন প্রদানে আমরা সক্ষম হচ্ছি।