মাজেদুল হক মানিক (১৩/০৫/১৯)ঃ
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুর রহমান হাসপাতালে আসেন মনোক্তি। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকলেও কর্মচারীদের অনেকেই থাকে না হাসপাতালে। নার্সদের কয়েকজন চলেন আপন মনে। নি¤œমান ও পরিমানে কম খাবার পণ্য দিয়ে চলে হেসেল ঘরের প্রতিদিনের কাজ। রোগী না থাকলেও বন্ধ হয়না বেদ্যুতিক বাতি ও ফ্যান। আবার অত্যাধুনিক জেনারেটের চলে কাগজ-কলমে। বিদ্যুৎ না থাকলে হাসপাতাল যেন ভূতের বাড়ী। এখানে ‘‘সররকারী মাল দরিয়ামে ঢাল’’ অবস্থা বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।
এই হলো মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তথা গাংনী হাসপাতালের রোজকার চিত্র। গতকাল রোববার (১২ মে) দুপুরে হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শনে এসব অনিয়ম চোখে পড়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকনসহ অন্যান্য সদস্যদের।
এ প্রসঙ্গে মেহেরপুর-২ আসনের ওই সংসদ সদস্য বলেন, প্রাত্যহিক খাবারে মাছ বরাদ্দ ২৩৬ গ্রাম। রোগীরা পাচ্ছেন ৫০ গ্রাম। পচা মানের ডাল ও অন্যান্য খাদ্য পণ্য দিয়ে রান্না করা হয়। অপরদিকে রোগীর বেডসিট ও অন্যান্য কাপড় ওয়াশ করার ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। দুর্নীতির কারনে খাবার ও ওয়াশিং ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমকর্তার বিষয়ে তিনি বলেন, উঁনি হাসপাতালে ঠিকমত থাকেন না বলে এলাকার মানুষের ব্যাপক অভিযোগ। আজও পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালে ছিলেন না। জানতে চাইলে উনি বলেছেন যে প্রশিক্ষণে। কিন্তু এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানাননি এবং হাসপাতালেও প্রশিক্ষণে যাওয়ার স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র নেই।
অপরদিকে হাসপাতালের অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে জানানোর জন্য এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে।
দুপুরে সাংসদ মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন আকস্মিক হাসাপাতালে ঢুকে সোজা রান্নাঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে হাতেনাতে ধরা পড়ে নি¤œমান ও পরিমানের চেয়ে কম পন্য দিয়ে রান্না করার দৃশ্য। পরে তিনি চারতলায় রোগী ওয়ার্ড পরিদর্শন করে নোংরা পরিবেশ ও সরকারী সম্পদ অপচয়ের দৃশ্য দেখতে পান। তাৎক্ষনিকভাবে পরিদর্শন খাতায় অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি উল্লেখ পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে আরএমও বিডি দাসও লিখিত নোট দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, রোগীদের টয়লেট নোংরা আর স্টাফদের টয়লেট অনেক পরিস্কার। লোক নেই জন নেই তবুও লাইট ও ফ্যান চালানো হচ্ছে। সরকারী এই সম্পদ অপচয়কারীদেরকে কোনভাবেই ক্ষমা করা যায় না। দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও একজন চিকিৎসক ও কয়েকজন কর্মচারীর বিষয়েও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করেন এমপি। এদিক এমপি’র হাসপাতাল পরিদর্শনে ব্যাপক অনিয়ম সামনে আসা ও তাৎক্ষনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহনের ঘটনায় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দরিদ্র রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধির ব্যতিক্রমি এ উদ্যোগ স্বাগত জানিয়ে তা অব্যহত রাখার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।